সামাজিক দূরত্ব মেনেই বোলিংয়ে ফিরলেন মাশরাফি

তিনি যেন হ্যামিলনের গল্পের সেই বাঁশিওয়ালা। যার উপস্থিতি টের পেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন মিডিয়াকর্মীরা। অন্য দলের প্রস্তুতি ফেলে ক্যামেরাপারসনরা ফোকাস দিলেন মাশরাফির বোলিংয়ে। প্রায় নয় মাস পর প্রিয় আঙিনা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পা রাখলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট মুক্তির পর ছোট রানআপে বোলিং করতেই একাডেমি মাঠে আসা তার। নিজের রানআপে চার ওভার বোলিংও করলেন জড়তাহীন। বিসিবির ট্রেনার তুষার কান্তি হাওলাদারকে নিয়ে বোলিং শেষে করেছেন রানিং। সামাজিক দূরত্ব মেনে নিজেকে পরখ করে দেখছেন বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপে খেলার মতো ফিটনেসের কতটা ফিরে পেয়েছেন এ ক’দিনে।\হমাশরাফি শেরেবাংলায় গতকাল প্রথম এলেও মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠে একাকী ফিটনেস অনুশীলন করেছেন গত কয়েক দিন। গতকাল অনুশীলন শেষে জানিয়েছেন, জিম ও রানিং করার সময় চোটাক্রান্ত ঊরুর পেছনের পেশিতে ব্যথা অনুভব করেন না। বোলিং করার সময়ও ব্যথা বোধ করেননি। মাশরাফি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে শেষ ম্যাচ খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। এরপর জুনে কভিড আক্রান্ত হয়ে লম্বা সময় ভুগেছেন। নিজে এবং স্ত্রী সুমনা হক সুমি কভিডমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক মাস পরই ছেলে সাহেল ও মেয়ে হুমায়রা কভিড পজিটিভ হয়। দুই সন্তানকে নিয়ে আইসোলেশনে থাকতে হয়েছে তাকে। এর আগেই অনুশীলন করতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন। যে কারণে প্লেয়ার্স ড্রাফটে রাখা হয়নি তাকে। বিসিবি থেকে বলা হয়েছিল, নড়াইল এক্সপ্রেস ফিট হলে বিশেষ ব্যবস্থায় টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবেন। একাধিক দল তাকে পেতে আগ্রহী হলে লটারি করা হবে। যদিও গতকাল মাশরাফির প্রস্তুতিতে ফেরার চেয়েও বায়োসিকিউর বাবল জোন একাডেমি মাঠে অনুশীলন করা নিয়ে আলোচনা ছিল বেশি। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘মাশরাফির জন্য অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল আউটার নেটে। সে ভুল করে একাডেমি মাঠে গেছে। সেজন্য পরে দুঃখ প্রকাশও করেছে।’ তবে মাশরাফি জানান, বোর্ডের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছেন। নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘কভিড পরীক্ষা করিয়েছি আমি। নেগেটিভ সার্টিফিকেট বোর্ডকে দেখাতেও চেয়েছি। তারা বলেছেন, প্রয়োজন হলে তারা চেয়ে নেবেন। ক্রিকেট অপারেশন্স থেকেই বলা হয়েছে, আমার জন্য উইকেট তৈরি আছে। আমি সেখানেই বোলিং করেছি। সতর্কতার জন্য নিজে বল নিয়ে গিয়েছি, বোর্ড থেকেও আলাদা বল দেওয়া হয়েছে। সবকিছু বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেই করেছি। প্র্যাকটিসের পর বোর্ডের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। তিনিও বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই। অন্য দলগুলোর প্র্যাকটিস করার সময় আমি প্র্যাকটিস না করলেই হলো। যেভাবে বলা হয়েছে, আমি সেভাবেই করেছি।’ অনুশীলনে একাডেমি মাঠে সবার সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ভুল হয়নি দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের।

Updated: 02/12/2020 — 11:19 AM